প্রাচীন রোমান সভ্যতা, রেনেসাঁ, শিল্প-স্থাপত্য, ফ্যাশন, খাবার ও পর্যটনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত দক্ষিণ ইউরোপের দেশ ইতালি। ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত দেশটির রাজধানী রোম। দেশটির ভেতরে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র—ভ্যাটিকান সিটি ও সান মারিনো—অবস্থিত। ইউরোপের ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতিতে ইতালির প্রভাব বহু শতাব্দী ধরে বিস্তৃত।
বর্তমানে পর্যটনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণেও বাংলাদেশিদের কাছে ইতালি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। তবে দেশটিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভ্রমণ, পড়াশোনা, চাকরি ও পরিবার—উদ্দেশ্য অনুযায়ী বৈধ পথ ও শর্ত আলাদা।
রোমান সাম্রাজ্য থেকে আধুনিক ইতালি
ইতালির ইতিহাসের সঙ্গে প্রাচীন রোমের নাম গভীরভাবে জড়িত। রোমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাম্রাজ্য ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিস্তার করেছিল। রোমান আইন, প্রশাসন, প্রকৌশল ও স্থাপত্য পরবর্তী ইউরোপীয় সভ্যতায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
পরবর্তী সময়ে ইতালির ফ্লোরেন্স, ভেনিস, মিলানসহ বিভিন্ন শহর ইউরোপীয় রেনেসাঁর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, মিকেলেঞ্জেলো ও রাফায়েলের মতো শিল্পী ও চিন্তাবিদদের কাজ ইতালির সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে।
আধুনিক ইতালি গঠনের ক্ষেত্রে ১৮৬১ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিভিন্ন ইতালীয় রাষ্ট্র ও রাজ্য একীভূত হয়ে ইতালি রাজ্য গঠন করে। পরে ১৯৪৬ সালের গণভোটের মাধ্যমে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ইতালি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়।
ঐতিহ্য ও পর্যটনে সমৃদ্ধ দেশ
ইতালির ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকা দীর্ঘ। রোমের কলসিয়াম, রোমান ফোরাম ও প্যানথিয়ন প্রাচীন সভ্যতার স্মৃতি বহন করছে। ভেনিস তার খাল ও ঐতিহাসিক নগরকাঠামোর জন্য বিখ্যাত। ফ্লোরেন্স রেনেসাঁ শিল্প ও স্থাপত্যের অন্যতম কেন্দ্র।
মিলান পরিচিত ফ্যাশন ও নকশার জন্য। অন্যদিকে আমালফি উপকূল, ডোলোমাইটস, সিসিলি ও সার্ডিনিয়ার মতো অঞ্চল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
ইতালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ব্যাপ্তিও উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালে UNESCO-র তালিকায় ইতালির ৬২টি World Heritage property রয়েছে, যার মধ্যে সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক—দুই ধরনের ঐতিহ্যই আছে।
খাবার ও জীবনধারা
ইতালির সংস্কৃতিতে খাবার গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উপাদান। পিৎজা, পাস্তা, রিসোট্টো, জেলাতো ও এসপ্রেসো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হলেও অঞ্চলভেদে ইতালীয় খাবারের ধরন ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।
ফ্যাশন ও ডিজাইনেও ইতালির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। মিলান আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। গাড়ি নির্মাণ, যন্ত্রপাতি, শিল্পনকশা ও বিলাসবহুল পণ্যের ক্ষেত্রেও ইতালির আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে।
বাংলাদেশিদের জন্য বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথ
বাংলাদেশি নাগরিকদের ইতালিতে যাওয়ার প্রধান বৈধ পথগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যটন ও ব্যবসার জন্য স্বল্পমেয়াদি Schengen visa, উচ্চশিক্ষার জন্য Study visa, চাকরির জন্য বিভিন্ন National work visa, Family Reunification এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি ভিসা।
ইতালির ঢাকাস্থ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে ইতালির ভিসার আবেদন VFS Global-এর মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়। ২০২৬ সালের দূতাবাসের ভিসা তালিকায় পর্যটন, ব্যবসা, অধীনস্থ চাকরি, Seasonal work, EU Blue Card, Self-employment, Digital Nomad/remote worker, Family reasons এবং Study-সহ বিভিন্ন ক্যাটাগরি রয়েছে।
১. পর্যটন ও ব্যবসার ভিসা
স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য Schengen Type-C visa ব্যবহার করা হয়। সাধারণ নিয়মে এ ধরনের ভিসায় Schengen এলাকায় সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত থাকা যায়।
ইতালিকে প্রধান গন্তব্য হিসেবে রেখে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ পরিকল্পনা, আর্থিক সক্ষমতা, থাকার ব্যবস্থা, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং বাংলাদেশে ফেরার কারণসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে হয়।
বর্তমান standard Schengen visa fee প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৯০ ইউরো এবং ৬ থেকে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ৪৫ ইউরো। এর সঙ্গে VFS-এর প্রযোজ্য service charge আলাদাভাবে থাকতে পারে।
২. উচ্চশিক্ষার জন্য Study Visa
ইতালিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য দীর্ঘমেয়াদি National Study Visa প্রয়োজন হয়।
আবেদন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Universitaly pre-enrolment। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ইতালির সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি, প্রি-এনরোলমেন্ট, ভিসা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের সমন্বিত প্রক্রিয়া প্রকাশ করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রি-এনরোলমেন্ট অনুমোদিত হওয়া নিজে থেকেই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না; চূড়ান্ত ভিসা সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট ইতালীয় কনস্যুলার কর্তৃপক্ষের।
Study visa-এর সরকারি ফি বর্তমানে ৫০ ইউরো। VFS-এর প্রযোজ্য service charge আলাদা হতে পারে।
স্টুডেন্ট ভিসার জন্য শুধু ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেখালেই হবে—এমন নয়। আবেদনকারীর বা গ্রহণযোগ্য পরিবারের সদস্যের আর্থিক সক্ষমতা, থাকার ব্যবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কোর্সের সঙ্গে পূর্ববর্তী শিক্ষার সামঞ্জস্য এবং অন্যান্য নথি বিবেচনা করা হয়।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি নির্দেশনায় জীবনযাপনের জন্য ন্যূনতম আর্থিক সক্ষমতা হিসেবে মাসে ৫৩৪.৪১ ইউরো, অর্থাৎ বছরে ৬,৯৪৭.৩৩ ইউরোর হিসাব দেওয়া হয়েছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রযোজ্য অঙ্ক আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট checklist থেকে যাচাই করা জরুরি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভাষা। সব ইতালীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা সব কোর্সের জন্য IELTS 6.0 বাধ্যতামূলক—এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। কোর্সটি ইংরেজি না ইতালীয় ভাষায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব admission requirement কী এবং দূতাবাসের checklist কী বলছে—তার ওপর ভাষাগত যোগ্যতার প্রমাণ নির্ভর করতে পারে। ঢাকার ইতালীয় দূতাবাস ২০২৬ সালের নোটিশে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক দেওয়া ভাষা-সনদ গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
CIMEA বা Declaration of Value কি সবার জন্য বাধ্যতামূলক?
এ ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শিক্ষাগত সনদের মূল্যায়নের জন্য CIMEA Statement/Certificate অথবা Declaration of Value (DoV) প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু প্রতিটি আবেদনকারীর ক্ষেত্রে দুটিই বাধ্যতামূলক—এমন নয়।
কোনটি প্রয়োজন হবে তা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্দিষ্ট ভর্তি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের admission requirement এবং সংশ্লিষ্ট ইতালীয় কর্তৃপক্ষের checklist অনুসরণ করা উচিত।
পড়াশোনার পাশাপাশি কাজের সুযোগ
ইতালিতে বৈধ Study residence permit থাকা শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সাধারণভাবে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা এবং বছরে সর্বোচ্চ ১,০৪০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন।
তবে পার্ট-টাইম কাজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ বা সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার ব্যয়ের একমাত্র উৎস হিসেবে ধরে ভিসার পরিকল্পনা করা ঠিক নয়।
স্কলারশিপের সুযোগ
ইতালিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন scholarship ও tuition-fee reduction-এর সুযোগ রয়েছে। এগুলোর শর্ত অঞ্চল, বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
তাই ‘DSU পেলেই সবার ১০০ শতাংশ টিউশন মওকুফ, ফ্রি বাসা এবং ৫-৭ হাজার ইউরো নিশ্চিত’—এমনভাবে বিষয়টি বলা সঠিক নয়। সুবিধার ধরন ও পরিমাণ সংশ্লিষ্ট region-এর নিয়ম এবং আবেদনকারীর যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে।
এছাড়া ইতালি সরকার বিদেশে বসবাসরত শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা Italian Government Scholarships-ও ঘোষণা করে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নির্দিষ্ট Master’s, AFAM, PhD, গবেষণা এবং ভাষা-সংস্কৃতি কোর্সের জন্য মাসে ১,২০০ ইউরোর বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছিল।
৩. বৈধ চাকরির মাধ্যমে ইতালি
বাংলাদেশিদের জন্য ইতালিতে বৈধভাবে কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো Decreto Flussi—অর্থাৎ ইতালি সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক/বহুবর্ষীয় শ্রমিক প্রবেশ কোটা।
২০২৬-২০২৮ সময়ের জন্য ইতালি মোট ৪৯৭,৫৫০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিকের জন্য কাজের প্রবেশের কোটা নির্ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের মোট কোটা ১,৬৪,৮৫০—এর মধ্যে ৭৬,২০০টি non-seasonal employed work, ৮৮,০০০টি seasonal work এবং ৬৫০টি self-employment-এর জন্য।
বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নির্দিষ্ট non-seasonal ও seasonal worker quota-র যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। Non-seasonal কাজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট দেশগুলোর জন্য ২০২৬ সালে ২৫,০০০টি quota নির্ধারিত হয়েছে; seasonal agricultural ও tourism work-এর জন্যও বাংলাদেশ তালিকাভুক্ত।
তবে এর অর্থ যে কোনো বাংলাদেশি নিজে আবেদন করে সরাসরি Work Visa পেয়ে যাবেন—এমন নয়। সাধারণত ইতালির নিয়োগকর্তাকে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় কর্মীর জন্য কাজের অনুমোদন বা Nulla Osta সংগ্রহ করতে হয়। এরপর বাংলাদেশে ভিসার আবেদন করা হয়।
ঢাকার ইতালীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ২২ অক্টোবর ২০২৪-এর পর ইস্যু হওয়া বৈধ Nulla Osta-ধারী Decreto Flussi আবেদনকারীরা VFS-এর নির্দিষ্ট webform-এর মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। ইতালীয় আইনে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে job offer confirmation-এর প্রয়োজনীয়তাও চালু হয়েছে।
৪. Family Reunification
ইতালিতে বৈধভাবে বসবাসরত কোনো বিদেশি নাগরিক নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যোগ্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য আবেদন করতে পারেন।
VFS-এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে spouse, ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তান এবং নির্দিষ্ট শর্তে বাবা-মা/শ্বশুর-শাশুড়ি এই ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন। Family Reunification-এর ক্ষেত্রে ইতালি থেকে প্রয়োজনীয় Nulla Osta একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি।
অর্থাৎ শুধু ইতালিতে থাকা কোনো আত্মীয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে Family Visa পাওয়ার অধিকার তৈরি হয় না; আবেদনকারী ও ইতালিতে থাকা পরিবারের সদস্যকে নির্ধারিত আইনি শর্ত পূরণ করতে হয়।
৫. অন্যান্য বৈধ পথ
ইতালির বর্তমান ভিসা ব্যবস্থায় Skilled Worker, EU Blue Card, Self-employment, Digital Nomad/Remote Worker, Religious purpose, Internship/Trainingসহ আরও কিছু নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি রয়েছে। কোন ক্যাটাগরি একজন বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তা তার কাজ, যোগ্যতা, চুক্তি ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
ইতালিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিসা নিশ্চিত করার নামে দালালের ওপর নির্ভর না করা। ইতালির ঢাকাস্থ দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসার আবেদন VFS-এর মাধ্যমে করা হয় এবং appointment নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। জাল নথি, স্বাক্ষর বা সিল ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় ইতালির রাষ্ট্রদূতও জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রায় ১০ হাজার work visa দেওয়া হয়েছিল এবং ২০২৬ সালেও একই ধরনের সংখ্যার প্রত্যাশা রয়েছে; পাশাপাশি family reunification visa-ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় দেওয়া হচ্ছে।
শেষ কথা
প্রাচীন রোমের ইতিহাস, রেনেসাঁর শিল্প, বিশ্বখ্যাত স্থাপত্য, খাবার, ফ্যাশন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ইতালি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত দেশ। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, কর্মসংস্থান ও পরিবার পুনর্মিলনের বৈধ সুযোগের কারণে বাংলাদেশিদের কাছেও দেশটির গুরুত্ব রয়েছে।
তবে ইতালিতে যাওয়ার কোনো ‘একটি সহজ ভিসা’ নেই। পর্যটনের জন্য Schengen visa, উচ্চশিক্ষার জন্য Study visa, নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার মাধ্যমে Work visa, যোগ্য পরিবারের সদস্যদের জন্য Family Reunification এবং নির্দিষ্ট দক্ষতার ক্ষেত্রে অন্যান্য National visa—প্রতিটি পথের নিয়ম আলাদা।
সুতরাং ইতালিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে দালালের কথার পরিবর্তে ইতালীয় দূতাবাস, VFS Global, Universitaly এবং সংশ্লিষ্ট ইতালীয় সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য ও checklist অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
